আ-সে-ম ওমোরের (সাহেব) কিছু কিতাব:
https://drive.google.com/drive/folders/1VdXY16aSmLGA_mHud90wEFsOXXtsvkx9?usp=sharing
আ-সে-ম ওমোরের (সাহেব) কিছু কিতাব:
https://drive.google.com/drive/folders/1VdXY16aSmLGA_mHud90wEFsOXXtsvkx9?usp=sharing
ঘুম আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নিয়ামত। বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ অনুগ্রহ ও দান। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য ঘুমের বিকল্প নেই। শারীরিক-মানসিক ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে এই পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলা ঘুমকে অন্যতম প্রধান মাধ্যম বানিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী। রাত্রিকে করেছি আবরণ। (সূরা নাবা : ৯-১০)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে : তিনিই তোমাদের জন্যে রাত্রিকে করেছেন আবরণ, নিদ্রাকে বিশ্রাম এবং দিনকে করেছেন বাইরে গমনের জন্যে। (সূরা ফুরকান : ৪৭)।
দিনভর ক্লান্তিকর চলাফেরার পর মানুষ যখন নিস্তেজ হয়ে পড়ে; কর্মক্ষম মানুষ অক্ষম হয়ে পড়ে, শক্তিমান মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে, সে সময় এ নিয়ামতই হয়ে ওঠে তার একমাত্র অবলম্বন, যার মাধ্যমে সে শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করে। ফিরে পায় পরবর্তী দিবসের জন্যে নতুন প্রাণশক্তি ও নবতর উদ্যম।
কোনো ব্যক্তি যত প্রখর মেধারই অধিকারী হোক, যত শক্তিশালীই হোক-কেবল দু-একটি রাত বিনিদ্র কাটলে বা নিয়মতান্ত্রিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে মেধাশক্তি অকেজো হয়ে যায়। আচার-আচরণে, চলা-ফেরায় এবং কথাবার্তা ও কাজেকর্মে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। বস্তুত এ নিয়ামতের কদর সে-ই সর্বাধিক বুঝতে পেরেছে, যার রাত কাটে নিদ্রাহীন; বিভিন্ন ব্যবস্থাপত্র গ্রহণের পরও আরামের বিছানায় এপাশ ওপাশ করে যার রাত ভোর হয়।
আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, আল্লাহ তাআলার কী মহান নিয়ামত নিয়মিত ভোগ করে যাচ্ছি? অবিরত তাঁর কত বড় অনুগ্রহ লাভ করে যাচ্ছি! কোরআন মাজীদে ঘুমকে বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলার রহমতের বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : তিনিই স্বীয় রহমতে তোমাদের জন্যে রাত ও দিন করেছেন, যাতে তোমরা তাতে (রাতে) বিশ্রাম গ্রহণ কর ও (দিনে) তার অনুগ্রহ অন্বেষণ কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (সূরা ক্বাসাস : ৭৩)।
সূরা রূমে আল্লাহ তাআলা রাতের ঘুমকে তাঁর নিদর্শনাবলীর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন : আর তাঁর নিদর্শনাবলীর একটি হলো রাতে ও দিনের নিদ্রা এবং তাঁর কৃপা অনে¦ষণ। নিশ্চয় এতে মনোযোগী স¤প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। (সূরা রূম : ২৩)।
কি সেই নিদর্শন? কি সেই শিক্ষা? বস্তুত চিন্তাশীল ব্যক্তি সহজেই তা উপলব্ধি করতে পারে। খুঁজে পায় আল্লাহ তাআলার কুদরতের এক অবাক নিদর্শন। কীভাবে তিনি মুখরিত ও কোলাহলময় বিশাল এক অশান্ত পৃথিবীকে সময়ের সামান্য পরিবর্তনে নিস্তব্ধ-নীরব করে দেন। প্রাণবন্ত মানুষকে নিষ্প্রাণ ও নির্জীবের মতো করে দেন। হাদীস শরীফে ঘুমকে মৃত্যুতুল্য গণ্য করা হয়েছে। ঘুমের বড় শিক্ষা হলো, ঘুম আমাদেরকে প্রতিদিন মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মনে করিয়ে দেয় আমরা একদিন মৃত্যুবরণ করব এবং মাওলায়ে পাকের সম্মুখে উপস্থিত হব। হিসাব-নিকাশের সম্মুখীন হব।
আমাদের কর্তব্য হলো আল্লাহ তাআলার দেয়া এ নিয়ামতকে যথাযথ উপলব্ধি করা। বস্তুবাদীদের মতো এটাকে গতানুগতিক জীবনধারা বা নিয়ম না ভাবা; বরং ঘুম মুমিনের জীবনের একটি আমল। গুরুত্বপূর্ণ আমল। জীবনের প্রতিটি ক্ষণই মুমিনের আমলের অংশ। মুুমিনের সবকিছুই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য নিবেদিত, উৎসর্গিত। তার জাগ্রত থাকাও আল্লাহর জন্য, আবার ঘুমও তাঁর জন্য।
হযরত মুআয ইবনে জাবাল রা. একবার আবু মূসা আশআরী রা.-কে উদ্দেশ্য করে বললেন : হে আবদুল্লাহ! আপনি কীভাবে কোরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন, আমি (দিবা-রাত্রি) কিছুক্ষণ পরপর কিছু অংশ করে তিলাওয়াত করতে থাকি। তিনি বললেন, আর আপনি কীভাবে তিলাওয়াত করেন হে মুআয? উত্তরে তিনি বললেন, আমি রাতের প্রথমাংশে শুয়ে পড়ি এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘুমিয়ে উঠে পড়ি।
এরপর আল্লাহ আমাকে যতটুকু তাওফীক দান করেন তিলাওয়াত করতে থাকি। এতে আমি আমার নিদ্রার অংশকেও সাওয়াবের বিষয় বলে মনে করি, যেমন আমার দাঁড়িয়ে তিলাওয়াতকেও সওয়াবের বিষয় বলে মনে করি। ঘুমের সুনান ও আদাব এবং নিয়তের প্রতি লক্ষ রাখা হলে ঘুমের প্রতিটি মুহূর্তই বান্দার আমলনামায় সওয়াব হিসাবে জমা হতে থাকে।
নবী কারীম সা. এর একটি বড় সুন্নত হচ্ছে ইয়াদাতুল মারীয। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দেখতে যাওয়া, তার খোঁজ-খবর নেয়া, হালপুরসী করা ইত্যাদি বিষয়গুলোকে ইসলামের পরিভাষায় বলা হয় ইয়াদাতুল মারীয। এটি এক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের একটি হক। হাদীস শরীফে এর অনেক ফজিলত বিবৃত হয়েছে।
ইয়াদাতুল মারীযের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের রহমত ও সন্তুষ্টি লাভ হয়। দিল নরম হয়। আখেরাতের কথা স্মরণ হয়। নেক আমলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এমনকি খোদ এ আমলের মাধ্যমেই অনেক সওয়াব হাছিল হয়। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক সুন্দর হয়। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হয়। অসুস্থ ব্যক্তি প্রবোধ লাভ করে। তার সুস্থতা ত্বরান্বিত হয়। যিনি এ আমলে এগিয়ে আসেন ফেরেশতাগণ তার জন্য রহমত ও মাগফিরাতের দুআ করতে থাকেন। আসমানে তার জন্য জান্নাতের ঘোষণা হতে থাকে। যতক্ষণ সে রোগীর সেবায় ব্যস্ত থাকে ততক্ষণ সে আল্লাহর রহমতের বেষ্টনীতে থাকে। আল্লাহর দৃষ্টিতে সে জান্নাতের বাগানে বিচরণ করতে থাকে। সর্বোপরি হাদীস শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী রোগীর সেবা যেন আল্লাহরই সেবা। তাই মুসলিম মাত্রই কর্তব্য হচ্ছে মহিমান্বিত এ আমলের প্রতি যতœবান হওয়া।
হাদীস শরীফে যেভাবে এ আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে তেমনি তা আদায় করার পদ্ধতি ও আদবও উল্লেখিত হয়েছে।
কেউ অসুস্থ হলে তার ইয়াদতে যাওয়া: নবীজীর সাধারণ রীতি এমনটাই ছিল, কেউ অসুস্থ হলে তার ইয়াদতে চলে যেতেন। সীরাতে এরকম উদাহরণ অনেক। হযরত উসমান ইবনে আফফান রা. বলেন, আল্লাহর কসম, আমরা সফরে ও হযরে (এলাকায় অবস্থানকালীন সময়ে) রাসূলুল্লাহ সা. এর সংশ্রব লাভ করেছি। তিনি আমাদের অসুস্থদের ইয়াদত (খোঁজ খবর) করতেন। আমাদের জানাযার সাথে সাথে যেতেন। আমাদের সাথে জিহাদ করতেন। অল্প হোক বেশি হোক যা থাকত তা দিয়েই আমাদের প্রতি সহানুভ‚তি প্রদর্শন করতেন, পাশে দাঁড়াতেন। (মুসনাদে আহমাদ: হাদীস ৫০৪)। তাই আমাদেরও এ সুন্নতের প্রতি যত্মবান হওয়া উচিত।
অসুস্থ ব্যক্তির হালপুরসী করা: ইয়াদতের একটি আদব হচ্ছে, অসুস্থ ব্যক্তিকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা, তার হালপুরসী করা। এতে অসুস্থ ব্যক্তি প্রবোধ লাভ করে। হিজরতের পর মদীনা মুনাওয়ারার আবহাওয়া অনেকের শরীরে খাপ খাচ্ছিল না। হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. যখন হিজরত করে মদীনায় আসলেন হযরত আবু বকর রা. ও হযরত বেলাল রা. জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। হযরত আয়েশা রা. বলেন, তখন আমি তাদের নিকট গেলাম। বললাম, আব্বাজী! আপনার শরীরটা কেমন লাগছে? বেলাল! আপনার কেমন লাগছে?
এভাবে তিনি তাদের হালপুরসী করতেন। হযরত আয়েশা রা. বলেন, এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর নিকট বিষয়টি জানালাম। তখন নবীজী দুআ করে দিলেন, আয় আল্লাহ! আপনি মদীনাকে আমাদের নিকট প্রিয় করে দিন; মক্কার মতো বা তার চেয়ে বেশি। মদীনার পরিবেশকে ঠিক করে দিন। মদীনার স-মুদে (মাপের পাত্রগুলোতে) আমাদের জন্য বরকত দিন। এর জ্বর ও অসুখ বিসুখকে এখান থেকে সরিয়ে দিন। তা জুহফায় নিক্ষেপ করুন। (সহীহ বুখারী: হাদীস ২৯২৬, ৫৬৭৭)।
তাই অসুস্থ ব্যক্তির হালপুরসী করা ইয়াদতের একটি গুরুত্বপ‚র্ণ বিষয়। তবে এক্ষেত্রে এ আদবটির প্রতিও লক্ষ করা জরুরি যে, অসুস্থ ব্যক্তির অবস্থা জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে বিনা কারণে তার রোগ সম্পর্কে খুঁটে খুঁটে জিজ্ঞাসা না করা। কেননা এতে রোগীরও কোনো ফায়দা নেই এবং ইয়াদতকারীরও না। উপরন্তু এতে অনেক সময় রোগী বিব্রত বোধ করে এবং সংকোচে পড়ে যায়। তাই এভাবে জিজ্ঞাসা করা শোভনীয় নয়।
হযরত শেখ সাদী রাহ. বলেন, আমার শরীরে একটি ক্ষত ছিল। শায়েখ রাহ. প্রতিদিন আমার খোঁজ নিতেন। জিজ্ঞাসা করতেন, কী অবস্থা? এভাবে জিজ্ঞাসা করতেন না যে, তোমার ক্ষত কোথায়? বুঝতে পারলাম, তিনি এজন্য এভাবে জিজ্ঞাসা করছেন যে, শরীরের সব অঙ্গের উল্লেখ সঙ্গত নয়। (গুলিস্তাঁ, পৃ. ২৩৭)।
অবশ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীর বিস্তারিত অবস্থা জানবেন এবং রোগীও তাকে সব খুলে খুলে বলবে। কেননা যথাযথ চিকিৎসার জন্য এর বিকল্প নেই।
আ-সে-ম ওমোরের (সাহেব) কিছু কিতাব: https://drive.google.com/drive/folders/1VdXY16aSmLGA_mHud90wEFsOXXtsvkx9?usp=sharing